<p style="text-align:justify">যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ায় সে দেশে যেতে বাংলাদেশিরা কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন। কারণ নির্বাচনের আগে ট্রাম্প এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ফলে তিনি যদি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে হাঁটেন, তাহলে প্রথমেই আমরা অভিবাসন নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারি। বিশেষ করে, ‘আনডকুমেন্টেড (বৈধ কাগজ ছাড়া)’ যারা যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তাঁরা বিপদে পড়তে পারেন।</p> <div class="d-flex justify-content-center"> <div class="col-12 col-md-10 position-relative"><strong>আরো পড়ুন</strong> <div class="card"> <div class="row"> <div class="col-4 col-md-3"><img alt="ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধের অবসান নীতি বাণিজ্যে গতি বাড়াবে" height="66" src="https://cdn.kalerkantho.com/public/news_images/2024/11/07/1730946289-89d26f39f3ca8634c49646b7727c8b9a.jpg" width="100" /></div> <div class="col-8 col-md-9"> <p>ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধের অবসান নীতি বাণিজ্যে গতি বাড়াবে</p> </div> </div> </div> <a class="stretched-link" href="https://www.kalerkantho.com/online/business/2024/11/07/1443760" target="_blank"> </a></div> </div> <p style="text-align:justify">প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি তাঁদের (যুক্তরাষ্ট্র থেকে) বের করে দিতে চান, সে ক্ষেত্রে আমাদের অভিবাসী যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এই বিপাকে পড়বেন। এই আশঙ্কা আমাদের থেকেই যায়। তবে বাংলাদেশও যেহেতু অনেক পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত, সেখানে কিছু সুবিধা-অসুবিধা থাকতেই পারে। আরেকটি শঙ্কার জায়গা হলো আন্তর্জাতিক মানবিকতা বা সহযোগিতা।</p> <p style="text-align:justify">তিনি (ট্রাম্প) যদি এই সহযোগিতা কমিয়ে দেন তাহলে তা নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে সম্পর্ক আছে তা বজায় থাকবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে যিনিই নির্বাচিত হন বা দায়িত্বে আসুন, তাতে বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁদের আচরণের তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। বাংলাদেশে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় থাক, অর্থনীতির অগ্রগতি অব্যাহত থাক এবং গণতন্ত্র প্রক্রিয়া বজায় থাক—এই বিষয়গুলোতে তাঁরা প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।</p> <p style="text-align:justify">ফলে আমার ধারণা, ট্রাম্প ক্ষমতায় এলেও তাঁদের যে প্রক্রিয়া সেটি বজায় থাকবে। (বাংলাদেশের) বর্তমান সরকার (অন্তর্বর্তীকালীন) যেসব চেষ্টা করছে সেগুলোর প্রতি তাঁদের সমর্থনও অব্যাহত থাকবে। বন্ধু দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আমরা প্রত্যাশা করি। সেখানে কমলা হ্যারিস থাকলেন, কি ট্রাম্প এলেন, তাতে আমাদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খুব বড় পরিবর্তন আসার মতো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। বাংলাদেশ ব্যক্তিনির্ভর দেশ।</p> <div class="d-flex justify-content-center"> <div class="col-12 col-md-10 position-relative"><strong>আরো পড়ুন</strong> <div class="card"> <div class="row"> <div class="col-4 col-md-3"><img alt="১৫ বছরে শেখ মুজিবের ১০ হাজারের বেশি ম্যুরাল-ভাস্কর্য-প্রতিকৃতি করেছে সরকার" height="66" src="https://cdn.kalerkantho.com/public/news_images/2024/11/07/1730946064-3f0e249f75ecf500e5e58cde91dcbea5.jpg" width="100" /></div> <div class="col-8 col-md-9"> <p>১৫ বছরে শেখ মুজিবের ১০ হাজারের বেশি ম্যুরাল-ভাস্কর্য-প্রতিকৃতি করেছে সরকার</p> </div> </div> </div> <a class="stretched-link" href="https://www.kalerkantho.com/online/national/2024/11/07/1443759" target="_blank"> </a></div> </div> <p style="text-align:justify">অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাননির্ভর দেশ। সেখানে সিদ্ধান্ত আসে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, ব্যক্তির মাধ্যমে নয়। আমাদের বোঝাপড়ার জায়গায় এই ঘাটতিগুলো রয়ে গেছে। এ ছাড়া গত কয়েক মাসে আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সামাজিক অবস্থাও পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে কিভাবে সামনে এগিয়ে যাব, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোই সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।</p> <p style="text-align:justify">তবে ধারণা করা যায়, ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারত কিছুটা অগ্রাধিকার পাবে। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে যে সম্পর্ক আছে তার আরো কিছুটা উন্নতি হবে। কারণ ব্যক্তি পর্যায়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক ভালো। যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে বন্ধু বা অংশীদার মনে করে। কৌশলগতভাবে চীনের সঙ্গে তাদের যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সেই প্রেক্ষাপটের কারণেই ভারত একটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।</p> <p style="text-align:justify"><strong>লেখক : </strong>যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত</p>